গলদা চিংড়ি চাষ পদ্ধতি-গলদা চিংড়ি চাষের আধুনিক পদ্ধতি

গলদা চিংড়ি চাষ

গলদা চিংড়ি স্বাদু পানি ও হালকা লবণযুক্ত পানিতে ভালোভাবে চাষ করা যায়। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশে স্বাদু পানির দ্রুত বর্ধনশীল চিংড়ির মধ্যে গলদা চিংড়ি অতি পরিচিত। প্রাকৃতিক পরিবেশে গলদা চিংড়ি স্বাদু পানি এবং ঈষৎ লবণাক্ত পানিতে পাওয়া যায়। তবে নদীর উঁচু অংশে যেখানে জোয়ার-ভাটার তারতম্য বেশি সেখানে এরা অবস্থান করতে বেশি পছন্দ করে। আমাদের দেশে আধুনিক পদ্ধতিতে গলদা চিংড়ি চাষ করে উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আধুনিক পদ্ধতিতে গলদা চিংড়ির উৎপাদন প্রতি একরে ১২০০ থেকে ২৫০০ কেজি হয়েছে। আমাদের দেশে গলদা চিংড়ির আধুনিক চাষ গুটি কয়েক জন চাষী ছাড়া ব্যাপকভাবে প্রচলিত শুরু হয়নি।

গলদা চিংড়ির পরিচিতি:

স্বাদু পানির চিংড়িকে প্রন (Prawn) বলে। গলদা চিংড়ি বিশ্বে Giant Fresh water Prawn নামে পরিচিত । গলদা চিংড়ির বৈজ্ঞানিক নাম: Macrobrachium Rosenberg. গলদা চিংড়ি অমেরুদন্ডী, শীতল রক্ত বিশিষ্ট, খোলসে আবৃত্তি নিশাচর সর্বভূক প্রাণী। প্রতিবার খোলস পরিবর্তনের মাধ্যমে গলদা চিংড়ি দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। গলদা চিংড়ি পচনশীল জৈব পদার্থ, প্রাণী, উদ্ভিদকণা (Diatom,Copepod, Crustaceans) প্রভৃতি খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে। পুরুষ গলদা, স্ত্রী গলদার চেয়ে অপেক্ষাকৃত বড় হয় এবং দ্রুত বর্ধনশীল। মধ্যে স্বজাতি বুঝি স্বভাব (Cannibalism) বিদ্যামান। তাই, খোলস বদলানোর সময়ে পর্যন্ত খাদ্য না থাকলে সবল চিংড়ি নরম চিংড়িকে সুযোগ পেলে খেয়ে নেয়।

গলদা চিংড়ি চাষের সুবিধা:

  • গলদা চিংড়ি দ্রুত বর্ধনশীল।
  • খাদ্য খরচ কম লাগে;
  • বাজারে চাহিদা প্রচুর;
  • রপ্তানির সুযোগ থাকায় দাম বেশি পাওয়া যায়;
  • অন্যান্য কার্প জাতীয় মাছের সাথে ও ধান ক্ষেতে চাষ করা যায়;
  • স্বাদু পানিতে এবং অল্প লবণাক্ত পানিতে (লবণাক্ততা ৫ পিপিটির কম) চাষ করা যায়।
  • একক ও মিশ্রচাষ (কার্প জাতীয় মাছ-রুই, কাতলা, মৃগেল এর সাথে) করা যায়।
  • প্রাকৃতিক উৎস ও হ্যাচারীতে উৎপাদিত রেনু পোনা বা পিএল পাওয়া যায়।
  • সর্বভূক প্রাণী, খাদ্য হিসাবে সহজে সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করা যায়।
  • সম্পূরক খাদ্য তৈরীর উপাদান সহজে সংগ্রহ করা যায়।
  • খাদ্য হিসাবে রেডিমেট খাবার ছাড়াও অপ্রচলিত খাবার যেমন ডাবরি ডাল, ভুট্টা, আলু, গম ইত্যাদি দেওয়া যায়;
  • একটু যত্ন সহকারে চাষ করা হলে রোগ-বালাই কম হয়, ফলে ওষুধ অন্যান্য উপকারণের জন্য খরচ কম লাগে।
  • বাজার মূল্য, চাহিদা বেশি এবং সহজে বিক্রয় করা যায়।

গলদা চিংড়ি চাষ পদ্ধতি:

আমাদের দেশে গলদা চিংড়ির সাধারণত ২টি পদ্ধতিতে চাষিরা চাষ করে থাকেন:

১। একক চাষ পদ্ধতি: ২। মিশ্রিত চাষ পদ্ধতি:

একক চাষ পদ্ধতি:

শুধুমাত্র গলদা চিংড়ির একক চাষ। একক চাষ পদ্ধতিতে স্বাভাবিক ভাবে প্রতি শতকে ১০০-১১০ টি গলদা পোনা মজুদ করা যায় এ রেশন সহ ক্লিন সিস্টেম এর ব্যাবস্থা করতে পারলে শতকে ২০০-৩০০ পোনা মজুদ করা যেতে পারে। একক চাষ পদ্ধতিতে প্রতি একরে  উৎপাদন ৪০০-৫০০ কেজি হয়ে থাকে।

মিশ্রিত চাষ পদ্ধতি:

এ পদ্ধতিতে গলদা চিংড়ির সাথে রুই, কাতলা, সিলভার কাপ, বিগহেড জাতীয় মাছের চাষ করা হয়। মিশ্রিত চাষ পদ্ধতিতে প্রতি শতকে ৭০-৮০ টি গলদা চিংড়ি এবং ৩-৪ টি কার্প জাতীয় মাছের পোনা মজুদ করা হয়। যেহেতু চিংড়ি অনেক দামি মাছ এবং এদের খাদ্য অনেক দামী তাই এর সাথে এমন মাছ মিশ্র কালচার দেয়া ভালো যে গুলির বাজার মূল্য বেশি। এক্ষেত্রে ৪০০-৫০০ গ্রাম আকারে রুই ও কাতলা মাছ দেওয়া ভালো। এগুলো চিংড়ি সংগ্রহ কালীন সময় প্রায় ৩-৩.৫ কেজি আকারে হবে। মিশ্রিত চাষে এমন কোন মাছ চিংড়ির সাথে দেওয়া যাবে না যেগুলি চিংড়ি মাছকে খেয়ে ফেলবে এবং যেগুলির বাজার মূল্য কম। উৎপাদন প্রতি একরে চিংড়ি ২০০-৩০০ কেজি এবং কার্প জাতীয় মাছ ২০০০-২৫০০ কেজি হয়ে থাকে।

গলদা চিংড়ির রেণু পোনা প্রাপ্তি:

প্রাকৃতিক উৎস হিসাবে নদী এবং সাগরের মোহনা থেকে গলদার সংগ্রহ করা যায়। এছাড়া, হ্যাচারিতে উৎপাদিত গলদার রেনু ও পাওয়া যায়। চৈত্র-বৈশাখ মাসে মার্চ-এপ্রিল মাসে প্রথম রেনু পাওয়া যায় এবং বছরের শেষ দিক সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত গলদা রেনু পাওয়া যায়। আমার ধারণা মতে প্রাকৃতিক উৎস হতে প্রাপ্ত চিংড়ির রেণু গুণগত মান ভালো।

চিংড়ির পি এল পোস্ট লার্ভা নার্সিং:

সিজনের শুরুতে অর্থাৎ বৈশাখ মাসের শুরুতে পি এল ছাড়তে হবে। এরপর যতদিন দেরি হবে, স্ত্রী চিংড়ির সংখ্যা বেশি ও পুরুষের সংখ্যা কম হবে। স্ত্রীর চিংড়ি আকারে ছোট হওয়ায় ফলন কম হয়। পিএল ছাড়ার প্রথম ২০-২৫ দিন পাউডার ফিট দিতে হবে। প্রথমে প্রতি ১০০০ পি এল এর জন্য ১০ গ্রাম করে পাউডার ফিড দেওয়া যেতে পারে। ক্রমান্বয়ে পাউডার এর পরিমান বাড়াতে হবে। এরপর ক্ষুদ্র আকারে পিলেট ফিড দেয়া শুরু করতে হবে।

প্রথম অবস্থায় চিংড়ি খাবারের ৩০-৪০% প্রোটিন থাকা আবশ্যক‌ বড় চিংড়ি এর জন্য খাদ্য ২৮-৩০% প্রোটিন থাকতে হবে। চিংড়ির রেণু পি এলের বেঁচে থাকার হার সাধারণত ৭০-৮০%। প্রতিকূল পরিবেশে এই বেঁচে থাকার হার অনেক কমও হতে পারে। এজন্য চিংড়ির পি এল নার্সিং পুকুর বড় করে প্রায় ২.৫-৩ ইঞ্চি কালচার পুকুরের দেওয়া হলে মৃত্যু হয় না বলেই চলে যদি অন্যান্য পরিচর্যা ঠিক থাকে‌।

চিংড়িকে সাধারণত ডুবন্ত খাবার দেওয়া হয়ে থাকে। কোন কারনে কালচার পুকুরের অধিকাংশ চিংড়ি মারা গেলে এবং নিয়মিত প্রাথমিক মজুদ ঘনত্ব বিবেচনা করে খাবার দেওয়া হলে, একদিকে যেমন খাবারের অপচয় হবে, অন্যদিকে অব্যবহৃত খাদ্য পৌঁছে গিয়ে পুকুরের পানি নষ্ট হবে। ‌

নার্সারী পুকুর

নার্সিং এর জন্য ১০-৪০ শতাংশ পুকু নির্বাচন করা ভালো। ছোট পুকুরে নার্সিং এর আরেকটি সুবিধা হল কালচার পুকুর অল্প সময় ব্যবহার করা। এতে নার্সিং কালীন ২-৩ মাস সময়ে কালচার পুকুরে অন্যান্য মাছ চাষ করে অধিক মুনাফা লাভ করা যায়‌। পুকুরের তলায় কাদা যত কম থাকবে ততই ভালো। দোআঁশ বা বেলে দো-আঁশ প্রাকৃতিক মাটির ৩.৫-৪ ফুট গভীরতা সম্পূর্ণ পুকুর, পিএল নার্সিং এর জন্য ভালো।

পানি যেন রোদে গরম না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে পি এল এর আশ্রয়ের জন্য শতাংশ প্রতি ২-৩ টি নারকেল/তাল/খেজুর/বাশের কঞ্চি সহ শুকনো ডাল ৪৫ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় পুঁতে দিতে হবে। কোন অবস্থাতে কাঁচা ডাল ব্যবহার করা ঠিক হবে না। নার্সারী পুকুরটির পাড় শক্ত, মজবুত, দৃঢ়ভাবে মেরামত করতে হবে।

পুকুরটির পাড়ের উপরের অংশ নেট দিয়ে ঘিরে দিতে হবে। নেট দিয়ে ঘিরে দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে বাইরে থেকে সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, কুঁচে, নার্সারী পুকুরের ভিতরে প্রবেশ করে রেনু পোনা খেতে না পারে। এছাড়া পুকুরের উপর দিয়ে রশি বা ফিতা ঘন ঘন করে টেনে দিতে হয়।

চিংড়ির পুকুর প্রস্তুতি 

অন্যান্য মাছের ন্যয় গলদা চিংড়ি চাষের পুকুর প্রস্তুত করতে হবে। কোন অবস্থাতেই পুকুরের তলায় অতিরিক্ত কাদা থাকা চলবে না। পুকুর প্রস্তুতির সময়ে শতকে ১-২ কেজি চুন দিয়ে পুকুর প্রস্তুত করা ভালো। পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচলের জন্য পুকুরের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পুকুর প্রস্তুতির শুরুতে অল্প পানি থাকা অবস্থায় রেটেনন দিয়ে রাক্ষসী মাছ সহ যাবতীয় মাছ নিধন করতে হবে। মজুদ পুকুরে ৪-৫ ফিট পানি রাখা উত্তম। পানির গভীরতা বেশি হলে অক্সিজেন স্বল্পতায় দেখা দিবে। অন্যদিকে পানির গভীরতা কম হলে পানি গরম হয়ে যেতে পারে।

পোনা মজুদ ও গলদা চিংড়ির খাদ্য তালিকা

নার্সিং পুকুরে ২-২.৫ মাস নার্সিং করা হলে চিংড়ি প্রায় ২.৫-৩ ইঞ্চি সাইজের হবে। এ সাইজকে আঞ্চলিক ভাষায় ছটকা বলে। চিংড়ি সর্বভূক‌ প্রাণী। পানির গুনাগুন ঠিক রেখে গলদা চিংড়ির খাবার যে কোনো খাবার দেয়া যেতে পারে। ছটাকা সাইজের ২.৫-৩ ইঞ্চি মজুদকৃত চিংড়িকে ফিট এর পাশাপাশি সয়াবিন মিল, ভুট্টা, ডাবরি বাল, চিড়া, সেদ্ধ গম ইত্যাদি দিয়ে চিংড়ি মাছের খাবার তৈরি করে দেয়া যায়।

চিংড়ি মাছের খাবারে কি কি দিতে পারবেন

সপ্তাহে প্রতিদিন ভোরে রেডি ফিড এবং সন্ধ্যায় ২ দিন সয়াবিন, ৩ দিন ডাবরি ডাল,ও ২ দিন ভুট্টা/গম সকালে ভিজিয়ে সন্ধ্যায় প্রয়োগ করা যেতে পারে। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে রেডি ফিড ভিন্ন অন্য খাবার ব্যবহার না করাই ভালো। বাণিজ্যিকভাবে ও বড় আয়তনের গলদা চাষের ক্ষেত্রে বাজারে প্রচলিত ভালো কোম্পানির রেডি চিংড়ির ফিড ব্যবহার করা সুবিধাজনক।

ছটকা চিংড়ি পুকুরে মজুদ করার পর চিংড়ির ওজনের ৩-৫% খাদ্য সন্ধ্যায় ও ভোর রাতে প্রয়োগ করতে হবে। মোট খাবারকে ৪ ভাগ করে, এর ৩ ভাগ সন্ধ্যায় ও ১ ভাগ ভোর রাতে প্রয়োগ করতে হবে। শতকে ২০০ গ্রাম ডিএপি স্যার গুলে ছিটিয়ে দিলে খোলস বদলানোর জন্য সুবিধা হয়। খাবার খেলো কি-না তা পরীক্ষার জন্য সপ্তাহে ১ দিন ট্রেতে খাবার দিতে হবে। ৩-৪ ঘণ্টা পর ট্রে তুলে দেখতে হবে ট্রে-তে খাবার অবশিষ্ট আছে কিনা।

চিংড়ি ২.৫-৩ ইঞ্চি সাইজের হলে স্ত্রী চিংড়ি আলাদা করে শুধু পুরুষ চিংড়ি চাষে দিলে লাভ ফলন আশা করা যায়। তাছাড়া পুরুষ চিংড়ি জৈবিক কারণে স্ত্রীর প্রতি আসক্ত থাকায় স্বাস্থ্যহানি ঘটে। এরেটর না থাকলে মিশ্র চাষে শতকে ৮০ পিছ ছটকা এবং এরেটর থাকলে ১৫০ পিছ বা তারও বেশি ছটকা মজুদ করা যায়। আলাদা পুকুরে পি এল নার্সিং করে কালচার পুকুরে চাষ করতে পারলে বছরে ২ বার চিংড়ি হারভেস্ট করা সম্ভব।

গলদা চিংড়ির পরিচর্যা

চাষ কালীন সময়ে শতকে ২০ দিন পর পর ১৫০-২০০ গ্রাম হারে জিওলাইট দেওয়া ভালো। এছাড়া, প্রতিমাসে শতকে ২৫০ গ্রাম লবণ দিতে হবে। খোলস বদলানোর পর চিংড়ি মাছ খুবই দুর্বল ও নাজুক হয়ে পড়ে। চিংড়ি স্বভোজী স্বভাবের হওয়ায় এ সময়ে সবল চিংড়ি দুর্বল গুলিকে খেয়ে ফেলতে পারে।

খাবার সংকট থাকলে এই খেয়ে ফেলার প্রবণতা বেশি হয়। তাই, কালচার পুকুরে বাঁশের চোঙ্গ, ১.৫-২ ইঞ্চি ডায়া বিশিষ্ট প্লাস্টিকের পাইপ, মাটির হাড়ি ইত্যাদি ফেলে রাখলে খোলস বদলানোর পর দুর্বল চিংড়ি সেখানে আশ্রয় নিতে পারবে। পুরুষ গলদা চিংড়ির পা আকারে বড় হয় এবং অন্য চিংড়িকে সাড়াশি বা চিমটা দ্বারা আক্রমণ করে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

প্রতি ১৫ দিন পর চিংড়ির পুকুরে জাল টেনে চিংড়ি তুলে পা ভেঙে দিতে হয়। পা ভেঙে দেয়ার ফলে অন্য চিংড়ি আক্রমণ বা খাওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং চিংড়ির বৃদ্ধি বেশি হয়। পা নাড়ানোর জন্য দেহের প্রায় ১৫-২০% শক্তি ব্যয় হয়। চিংড়ি মাছ অক্সিজেন এর প্রতি বেশি সংবেদনশীল। গভীর রাতে পুকুরের পানির দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরীক্ষা করতে হবে।

চিংড়ির পুকুরে দ্রবীভূত অক্সিজেন এর মাত্রা কমপক্ষে ৫ মি.গ্রা./লিটার মেন্টেন করতে হবে। পানিতে অক্সিজেন এর মাত্রা কম হলে বা অন্য কোন সমস্যা দেখা দিলে এবং পুকুর পাড় নিচু হলে চিংড়ি হেঁটে পুকুরের বাইরে চলে যেতে পারে।

এছাড়া, বাইরে থেকে সাপ, ব্যাঙ, কুচিয়া ইত্যাদি পুকুরে প্রবেশ করে চিংড়ি খেয়ে ফেলতে পারে। তাই, নিরাপত্তার জন্য পারের চারদিকে পানির কাছাকাছি নেট স্থাপন করতে হবে। প্রতি ১৫ দিন পর পর চিংড়ির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে খাবারের পরিমাণ পুন:নির্ধারণ করতে হবে।

চিংড়ি মাছের বাজার চাহিদা

অভ্যন্তরীণ বাজারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গলদা চিংড়ি মাছের প্রচুর চাহিদা থাকায় এর চাষাবাদ অন্যান্য মাছ চাষের তুলনায় লাভজনক। দুই হাতে দুটি বাজারের ব্যাগে ২০ কেজি করে মোট ৪০ কেজি চিংড়ি নিয়ে বাজারে আড়তে গেলে প্রায় ৪০,০০০/- টাকা নিয়ে ঘরে ফেরা যায়।

অন্যদিকে ৪০,০০০/- টাকা বিক্রির উদ্দেশ্যে যদি কার্প মাছ বা পাঙ্গাস মাছ নিয়ে  আড়তে যেতে হয় তাহলে একটি পিকআপ এ করে মাছ নিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে পিকআপ ভাড়া, মাছ ধরতে এবং লোড-আনলোড করতে অনেক বেশি লোকবল দরকার হয়।

চিংড়ি চাষে খাবার খুব কম লাগে, ফলে খাবার বাবদ খরচ অনেক কম হয়। অন্যদিকে বর্তমানে ৮-১০ টায় কেজি সাইজের চিংড়ি বাজারমূল্য প্রায় ৮০০-১০০০ টাকা কেজি। কাজেই বাংলাদেশের যে সকল অঞ্চলে গলদা চিংড়ির ভালো উৎপাদন হয়ে থাকে, সেসকল অঞ্চলে অন্য মাছের তুলনায় গলদা চিংড়ি চাষ করা লাভজনক।

চিংড়ি মাছ চাষ করার নিয়ম জেনে আসুন আমরা চিংড়ি চাষ করি।

গলদা চিংড়ি চাষ

লেখক

তাপস ঢালী

সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার,

ইভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ,

(আইসিবি) ঢাকা।