ছাদবাগানে মাটির বিকল্প কোকোপিটের ব্যাবহার

মাটির বিকল্প কোকোপিট

গাছকে ভালোবাসেনা এমন মানুষ খুজে পাওয়া অসম্ভব। গাছের প্রতি ভালোলাগা ও ভালোবাসা থেকে ছাদে বাগান করে থাকি। শুধু ছাদ বাগানে নয় বাণিজ্যিক চাষের জন্যেও আমরা মাটির বিকল্প হিসেবে এমন কিছু খুঁজে থাকি ,যা কিনা পরিচ্ছন্ন, সহজে বহনযোগ্য ও গাছ দ্রুত বেড়ে তুলতে সাহায্য করে। আর এর সমাধান হিসাবে মাটির বিকল্প কোকোপিট। 

কোকোপিট একটি জৈব উপাদান যা নারিকেলের আঁশ থেকে বাছাই করা এক প্রকার গুঁড়া উপাদান। মুলত শুকনো নারিকেলের আঁশ থেকে এই জৈব উপাদান সম্পূর্ন স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে কোকোপিট তৈরি করা হয়। কোকোপিটের পানির সুনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে আধুনিক কৃষি খামারীরা কৃষি কাজে খামারে ব্যবহার করে থাকেন।

কোকোপিট কি এবং কি দিয়ে তৈরি হয়

নারিকেল একটি কৃষি পণ্য নারিকেলের ছোবড়া এর অংশ। নারিকেলের ৩৫-৬৫% অংশ হল এর আঁশ। সাধারণত নারিকেলের এক-তৃতীয়াংশ আঁশ, বাকি দুই-তৃতীয়াংশ কয়ার বা ছোবড়া। আর এই নারিকেলের ছোবড়া বা কয়ার থেকে তৈরি করা হয় কোকোপিট। বর্তমানে যারা ছাদ বাগান করেন সেই সকল চাষীরা মাটির বিকল্প হিসাবে ছাদবাগানে কোকোপিটের ব্যাবহার করছেন।

পানি ধরে রাখা ও পানি সুনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে যেকোন গাছ খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠতে পারে। শুকনো নারিকেলের ছোবড়া কে মাড়িয়ে যে গুড়ো উপাদান বেড় করা হয়, এর পর এ গুলোকে মেশিনের মাধ্যমে কোকোপিটে রূপান্তর করা হয়। দিনকে দিন কোকোপিটের ব্যবহার জনপ্রিয় হচ্ছে, এমনকি বাণিজ্যিক চাষাবাদের জন্যও মাটির উন্নত বিকল্প হিসাবে চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কোকোপিট ব্যবহারের সুবিধা

  • মাটি ছাড়া চাষাবাদের জন্য বিকল্প মাধ্যম হলো কোকোপিট
  • কোকোপিটে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান যেমন- ফসফরাস, নাইট্রোজেন, উচ্চতর পটাশিয়াম, ও ম্যাগনেশিয়ামের মত উপাদান গুলো থাকে।
  • কোকোপিট প্রচুর পরিমাণে পানি ধারণ করে থাকে।
  • পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভাল থাকায় গাছের শিকড়ে পঁচন ধরেনা।
  • কোকোপিটে দ্রুত পানি ও বাতাস চলাচল করতে পারে, ফলে গাছের শিকড় দ্রুত বৃদ্ধিপায়।
  • গাছের শিকড় দ্রুত বাড়ার কারণে গাছ তাড়াতাড়ি বড় হয়, গাছ সুস্থ্য ও সবল থাকে।
  • কোকোপিট ব্যবহৃত গাছে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক আক্রমণ অনেকাংশ কম হয়।
  • কোকোপিট ১০০% জৈব উপাদান তাই গাছের মৃত্যুরহার খুবই কম।
  • কোকোপিটে রাসায়ানিক সার না মেশালেও চলে। শুধুমাত্র ভার্মিকম্পোষ্ট অথবা জৈব সার মিশিয়ে চাষ করা যায়।
  • বীজতলা ও বীজ থেকে চারা উৎপাদনের জন্য কোকোপিট বেশি জনপ্রিয়।
  • এক কেজি কোকোপিট ১৫ কেজির মতো পানি ধরে রাখতে পারে। তবে বিভিন্ন ঋতুতে এর পরিমাণ বিভিন্ন হয়।
  • কোকোপিটের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা ৬০০-৮০০ ভাগ হয়।
  • কোকোপিটের পি এইচ মান ৫.৭-৬.৫ মাত্রায় ধরে রাখতে সাহায্য করে।

যেভাবে কোকোপিট ব্যবহার করবেন

কোকোপিট উন্নত বিশ্বে বীজ তলা তৈরি বাড়ীর ছাদবাগানে, হাইড্রোপনিক্স চাষাবাদে মাটির বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করে। যেহেতু কমপ্রেস বা চাপ প্রেয়োগের মাধ্যমে কোকো ডাস্ট থেকে কোকোপিটে রূপান্তর করা হয়। তাই এটি একটি শক্ত বস্তর মত থাকে। কোকোপিটকে পানিতে ভিজিয়ে পানি ঝরিয়ে কোকো ডাস্টে রূপান্তর করতে হয়। প্রতি কেজি কোকোপিটের জন্য ৫ লিটার পানি মেশাতে হবে। পানি আস্তে আস্তে ঢালতে হবে, কোকোপিট খুব দ্রুত ফুলতে থাকে। পানি শোষণ করা অংশ টুকু হাত দিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। তারপর এটা সারসরি ব্যাবহার করা যাবে।

বীজ থেকে চারা তৈরির জন্য টবে, বড় ড্রামে বা বেডে কোকোপিট ব্যাপকভাবে ব্যাবহার করা হয়। ছাদবাগানে মাটির বিকল্প কোকোপিট ব্যাবহার হয় সবথেকে বেশি আকারে।

Leave a Comment