2
আতা বা শরিফা ফল চাষ পদ্ধতি Custard Apple

আতা বা শরিফা ফল চাষ পদ্ধতি বাংলাদেশে জনপ্রিয় না হওয়ার কারেণে সচরাচর শরিফা ফলের চাষাবাদ দেখা যায়না। আতা বা শরিফা ফল অ্যানোনেসি পরিবারভুক্ত এক ধরনের যৌগিক ফল। এটি আতা, শরিফা, মেওয়া এবং নোনা ফল নামে পরিচিত।  ইংরেজিতে নাম Custard Apple পর্তুগিজ ভাষায় একে আতা ফল বলে। এই গাছের উচ্চত্তা বেশি (প্রায় ১০ মিটার ) হয়ে থাকে।

আতাফল ফেব্রুয়ারী র্মাচ মাসে সংগ্রহ করা হয়। সাধারনত একটি ফলের ওজন ১০০ গ্রাম থেকে ৩০০গ্রাম পর্য়ন্ত হয়ে থাকে। খাবারযোগ্য শাঁস বা পাল্পের পরিমাণ ফলের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পাওয়া যায়। শাঁসের রং সাদা ও ক্রিম সাদা হয়ে থাকে, শাঁস মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়। ফলের টিএসএস ১৮ থেকে ২৪% হয়ে থাকে।

আমাদের দেশে এর ব্যবসায়িক পরিমন্ডল সেভাবে এখোনো গড়ে ওঠেনি। আদি ফল হিসাবে আগে বাড়ির আঙ্গিনায় ও চারপাশে অথবা জঙ্গলে, অযত্নে অবহেলায় বেড়ে উঠেছে। স্থানীয় বাজারে  বিক্রয় হলেও সেভাবে এই ফলের প্রচার ছিলোনা। বর্তমানে আমাদের দেশে বানি্যজিক ভাবে আতা ফলের চাষাবাদ শুরু হয়েছে, এবং বাজার মূল্য অন্য ফলের তুলনায় অনেক বেশি। যার কারণে দিনদিন এদেশের মানুষ আতাফল বা শরিফা ফলের বাণিজ্যিক চাষাবাদে আগ্রহি হচ্ছে। 

শরিফা ফলের প্রজাতিসমূহ

আতা বা শরিফা ফলের এনোনা ( Annona ) গনভুক্ত  বর্তমানে ৭ (সাত টি) প্রজাতি রয়েছে এবং একটি শংঙ্কর জাত রয়েছেে। এই ফলের জনপ্রিয় প্রজাতিগুলা হচ্ছেঃ 

  • আনোনা স্কোয়ামোসা (Annona Squamosa)
  • অ্যানোনা রেটিকুলাটা (Annona Reticulate)
  • আনোনা মুরিকটা (Annona Muricata)
  • অ্যানোনা সেনেগ্যালেনসিস (Annona Senegalensis)
  • আনোনা চেরিমোলা (Annona Cherimola)

আনোনা স্কোয়ামোসা (Annona Squamosa)

এর চামড়ায় গুটি গুটি চোখ আছে।  এটিই বাংলাদেশে বেশি জন্মে। স্বাদেও এটি সেরা, সুমিষ্ট এই ফলটি আতা নামে বেশিরভাগ স্থানে পরিচিত। তবে কেথাও  একে মেওয়া কোথাও একে শরিফা বলা হয়। হিন্দিতেও একে শরিফা বলে। সংস্কৃত ভাষায় একে সীতাফল বলে। 

অ্যানোনা রেটিকুলাটা (Annona Reticulata)

এর চামড়া মসৃন লালচে রঙ স্বাদে কিছুটা নোনতা লাগে। এটি নোনা ফল নামে বেশি পরিচিত। তবে কোথাও কোথাও একেই আতা ফল বলে। সংস্কৃত ভাষায় একে রামফলন বলে।

আনোনা মুরিকটা (Annona Muricata)

ইংরেজিতে একে ’সাওয়ার-সপ’ (soursop বা graviola) বলা হয়, বাংলায় একে করোসল বলে। এর চামড়া মসৃণ সবুজ রং এবং চামড়ার উপর শুলেরমত থাকে। এটি শুর-রাম ফল বা লক্ষণ ফল নামেও পরিচিত। এটি আফ্রিকা, মধ্য আমোরিকা, দক্ষিন আমোরিকা, দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাহরীয় অন্চলে জন্মে।

অ্যানোনা সেনেগ্যালেনসিস (Annona Senegalensis)

ইংরেজিতে একে ‘আফ্রিকা‘ কাস্টার্ড অ্রাপেল বলা হয়। এর চামড়া মসৃণ, হলদেটে রঙ হয়। নোনা ফল নামেও এটি বেশি পরিচিত আফ্রিকান নোনা নামেও ডাকা হয়।

আনোনা চেরিমোলা (Annona Cherimola)

এটি বাংলাদেশে কমই জন্মে। এর চামড়া অনেকটা মসৃণ। হিন্দিতে একে হনুমান ফল বলে। 

(এছাড়া ”থাই লেসার্ড’ এবং ’কাম্পঙং মভ” নামে এর দুটি প্রজাতি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া যায়) 

মাটি ও জলবায়ু

আতাফল বা শরিফা ফল চাষ পদ্ধতির প্রধান করণীয় হলো আপনাকে উঁচু জমি র্নিবাচন করতে হবে যে জমিতে পানি উঠেনা এমন জমি। বসতবাড়ির খোলা যায়গায় এবং অল্প ছায়াযুক্ত স্থানেও আতা বা শরিফা চাষ করা যায়। বেলে দোআঁশ মাটিতে ও সবসময় রোদ থাকে সে স্থানে  সবথেকে ভাল ফলন পাওয়া যায়। শুস্ক ও গরম  পরিবেশে আতা গাছ  ভাল হয়।

চারা তৈরি

সাধারণত বীজ থেকে শরিফার চারা তৈরি করা হয়ে থাকে, তবে বর্তমানে কলমের মাধ্যমেও চারা তৈরি করা হচ্ছে। কলমের গাছে ছয়মাস থেকে এক বছর বয়সে ফল আসা শুরু করলেও বীজের চারা থেকে ফলন পেতে দুই-তিন বছর সময় লাগে।

পুষ্ট ও নিরোগ বীজ থেকে চারা উৎপাদন করতে হয়। এতে গাছ পুষ্ট হয় এবং ফলন ভালো হয়। বীজের আবরণ বেশ শক্ত, বীজ থেকে চারা অঙ্কুরিত হতে দুই-তিন মাস সময় লাগে। তাই বীজ পানিতে ভিজিয়ে বপণ করলে তাড়াতাড়ি  অঙ্কুরিত হয়। বীজতলায় এবং পলিথিনের ব্যাগে চারা উৎপাদন করা যায়। চারার বয়স যখন ৪ থেকে ৫ মাস বয়সী হয় তখন  সুস্থ্য সবল চারা বা কলম মুল জমিতে লাগাতে হয়।

জুন-জুলাই চারা রোপনের জন্য উত্তম সময়। ইদানিং গ্রাফটিং করেও চারা তৈরী করা হচ্ছে। গ্রাফটিং এর জন্য ৬ থেকে ১২ মাস বয়সী চারার উপর ভিনিয়ার এবং ক্লেফট্  গ্রাফটিং করা হয়। গ্রাফটিং এর জন্য উপুযুক্ত সময় হলো ফেব্রুয়ারি থেকে জুন-জুলাই মাস পর্যন্ত। 

শরিফা ফল চাষের জন্য জমি প্রস্তুত

শরিফা ফল চাষের জন্য জমির আগাছা পরিস্কার করে ভালো ভাবে চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে মই দিতে হবে। শরিফার চারা গাছ থেকে গাছের এবং সারি থেকে সারির দুরত্ব হবে ৪ মিটার, অথবা ৮ হাত। ৬০*৬০*৬০ সে.মি. গর্ত করে প্রতি গর্তে ২০ কেজি পচা গোবর, ২৫০ গ্রাম এমপি সার ভালভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে ১৫ থেকে ২০ দিন রেখে দিতে হবে।

এরপর গর্তের মাঝখানে খাড়াভাবে চারা রোপন করতে হবে। ১ থেকে দুই বছর বয়সী গাছে  প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী ও অক্টোবর মাসে দুই কিস্তিতে মোট ১৫ থেকে ২০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম ইউরিয়া, ২০০গ্রাম টিএসপি, ২০০ গ্রাম এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে। সার দেওয়ার পরপর সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। এবং শুষ্ক মৌসুমে মাটি শুকিয়ে গেলে সেঁচ দিতে হবে।

একটি ফলন্ত গাছে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি, মে, এবং অক্টোবর মাসে ১৫০ থেকে ১৭৫  গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০ থেকে ১৭৫ গ্রাম টিএসপি, ১৫০ থেকে ১৭৫ গ্রাম এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে। 

শরিফা ফলের রোগ-বালাই ও প্রতিকার

শরিফা ফল গাছে পোকামাকড়ের আক্রমন তেমন দেখা না গেলেও মিলিবাগ নামের এক ধরনের পোকা ফলের উপর আক্রমন করে। বাজারে নানান ধরনের কীটনাশক পাওয়া যায়, কীটনাশক ব্যবহার করে ও হাত দিয়ে ফল পরিস্কার করে রক্ষা পাওয়া  যায়। এনথ্কাস রোগে আক্রন্ত হয়ে ফল পুরোটা কালো হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এনথ্কাস আক্রান্ত ফল গাছ থেকে পাড়তে হবে এবং গাছের যে সকল ডাল মরে গেছে সে সকল ডাল কেটে ফেলেতে হবে ।

ফল সংগ্রহ

ফুল ফোটার ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে ফল পুষ্ট হয়। ফল পুষ্ট হলে হালকা সবুজ থেকে হলুদ ভাব হয়েথাকে। সংগ্রহ করা পরিপক্ক ফল গুলো ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে পাকতে শুরু করে। শরিফা ফল পাকতে শুরু করলে তাড়াতাড়ি নরম হয়ে যায়। ৩ থেকে ৪ বছর বয়সী গাছে ১৫০ থেকে ২৫০ টি পযর্ন্ত ফল ধরে। এক একটি ফলের ওজন ১৫০ থেকে ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়।

পুষ্টি ও মান

পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ এই ফলটিতে প্রতি ১০০ গ্রামে পাওয়া যায়

  • শর্করা ২৫ গ্রাম
  • পানি ৭২ গ্রাম
  • প্রোটিন ১.৭ গ্রাম
  • ভিটামিন-এ ৩৩ আইইউ
  • ভিটামিন-সি ১৯২ মিলি গ্রাম
  • থিয়ামিন ০.১ মিলি গ্রাম
  • রিবোফ্লাবিন ০.১ মিলি গ্রাম
  • নিয়াসিয়ান ০.৫ মিলি গ্রাম
  • প্যানটোথেনিক অ্যাসিড ০.১ মিলি গ্রাম
  • ক্যালসিয়াম ৩০ মিলি গ্রাম
  • পটামিয়াম ৩৮২ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম ১৮ মিলি গ্রাম
  • আয়রন ০.৭ মিলি গ্রাম
  • ফসফরাস ২১ মিলি গ্রাম
  • সোডিয়াম ৪ মিলি গ্রাম।

আতা বা শরিফা ফলের চারার জন্য যোগাযোগ করুণ-

success farm 01832 411 422

আমাদের কাছে থাই ১২ মাসি শরিফার চারা পাবেন।

2 Comments

  1. Yeasin August 6, 2021 Reply

    আমি আজকে দশটি ছাড়া কিনলাম দেখা যাক ফলাফল কি হয়

    • Success Farm August 8, 2021 Reply

      আশা করছি ভাল কিছু হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

0

TOP

X